মোঃ ইব্রাহিম, মুরাদনগর।।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কামারচর গ্রামে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সোহাগীর মৃত্যু ঘিরে রহস্যের জট ঘনীভূত হয়েছে। মেধাবী ও প্রাণচঞ্চল এই শিশুটির মৃত্যু নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ও সন্দেহ দানা বেঁধেছে। স্থানীয়দের দাবি, সোহাগীকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
শিশুটি কামারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত। শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে পড়ালেখায় মনোযোগী ও শান্ত-ভদ্র স্বভাবের ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগী তার সৎ মা শারমিন আক্তার ও পিতা আল-আমিনের সঙ্গে বসবাস করত। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা শিশুটির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত। বুধবার সকালে হঠাৎ তার মৃত্যু হলে পরিবার দাবি করে, সোহাগী আত্মহত্যা করেছে। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কের বিষয় হলো—কোনো ময়নাতদন্ত ছাড়াই দ্রুত দাফন সম্পন্ন করা হয়। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়া দাফন সম্পূর্ণ অবৈধ। প্রশাসনের এ ধরনের উদাসীনতা আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বাছির মিয়া জানান, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলেও এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “পরিবারের অভিযোগ না থাকলে দাফন করে দাও।”
অন্যদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার খান জানান, তিনি ঘটনাটি দাফনের পরদিন জানতে পেরেছেন এবং প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, “আমি এবিষয়ে কিছুই জানি না।”
কুমিল্লা গেজেট