কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

বুড়িচংয়ে খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান শুরু: সহযোগিতা চাইলেন ইউএনও

  • প্রকাশের তারিখ : 7-আগস্ট-2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং ।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় দখল ও অবহেলায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলো পুনরুদ্ধার এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

গত ২২ জুলাই থেকে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে খাল দখলমুক্ত ও কচুরিপানা, জলজ আগাছা ও বাঁধ অপসারণের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ তানভীর হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সার্বিক তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম।

সম্প্রতি খালগুলোর অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ইউএনও মোঃ তানভীর হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোনিয়া হক, উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহম্মেদ অক্ষয়, বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাবেক সভাপতি আব্দুল মোমেন, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা।

ইউএনও মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, “ফসলি জমি ও বসতভিটার জলাবদ্ধতা দূর করা এবং খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। জলাবদ্ধতা একটি মানবসৃষ্ট সমস্যা, তাই সকলের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। আমি বুড়িচংবাসীর সহায়তা কামনা করছি।”

উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে মোট ২০৩টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রাজাপুর ইউনিয়নেই রয়েছে ১১০টি খাল। বাকিদের মধ্যে—বাকশীমুলে ৩টি, বুড়িচং সদরে ২৬টি, পীরযাত্রাপুরে ৩টি, ষোলনলে ৫টি, ময়নামতিতে ৯টি, ভারেল্লা উত্তর ও দক্ষিণে ১৬টি এবং মোকামে ৩০টি খাল রয়েছে।

তবে অধিকাংশ খাল দখল, ভরাট এবং অযত্নে হারিয়ে যেতে বসেছে। কোথাও গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকান কিংবা পাকা স্থাপনা। অনেক ক্ষেত্রে খালের অস্তিত্ব পর্যন্ত মুছে গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এমন চিত্র তৈরি হয়েছে।

তবে বর্তমানে প্রশাসনের তৎপরতা এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, কুমিল্লার উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এ উপজেলা ১৬৩.৭৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এবং এর জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। প্রশাসনের এই উদ্যোগ সফল হলে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ