নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব বামপাড়া গ্রামে সহায়তায় নির্মিত এক হতদরিদ্র বিধবার বাড়ি দখলের চেষ্টা ও হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত বাহার মিয়ার স্ত্রী বিধবা হারিছা বেগম দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ওই গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী পরিবারের ওয়ারিশান সূত্রে পাওয়া ১৩ শতক জমিতে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি একই গ্রামের মৃত তিতা মিয়ার ছেলে আহসান উল্লাহ, তার ভাই এয়াছিন ও এয়াকুব ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।
বিধবা হারিছা বেগম অভিযোগ করেন, আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও আহসান উল্লাহ ও তার ভাইয়েরা জোরপূর্বক তার বাড়ির উঠানে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বাঁধা দিতে গেলে তার মেয়ের জামাতা আজিম উদ্দিনের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনায় আহত আজিম উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং বিধবার ছেলে দেলোয়ার হোসেন কুমিল্লা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
জমির ইতিহাস সম্পর্কে জানা গেছে, পূর্ব বামপাড় গ্রামের মৃত মাকু মিয়া, ইদ্রিস মিয়া ও সিদ্দিক মিয়া তিন ভাইয়ের মধ্যে মাকু মিয়া তার প্রতিবন্ধী দুই ছেলের জমি তার ভাই ইদ্রিস মিয়াকে মৌখিকভাবে এবং পরে বিএস খতিয়ানে দিয়ে দেন। ওই জমির একটি অংশে ইদ্রিস মিয়ার পুত্রবধূ হারিছা বেগমকে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে তিনি সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন।
তবে অভিযুক্ত আহসান উল্লাহ দাবি করেন, "মাকু মিয়ার ওয়ারিশদের তিনজন আমাদের কাছে জমি বিক্রি করেছেন। সেই সূত্রেই আমরা ওই জমিতে মালিকানা দাবি করছি। ঘরবাড়ি না সরানোয় আমরা আমাদের জমিতে বেড়া দিয়েছি। কোনো হামলা হয়নি।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুমিল্লা গেজেট