আল-আমিন কিবরিয়া।।
সন্তানকে দেখে দেখে, সন্তানকে নিয়ে রঙিন ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পায় মা-বাবা। কিন্তু এ কেমন মৃত্যু? মাহতাব বসে ছিল ক্লাসরুমে। হঠাৎ একটি বিমান বিধ্বস্তে মধ্যে সব শেষ। বাবা-আমার আগেই সন্তানের এ ভাবে চলে যাওয়া কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না মাহতাবের পরিবার।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় চার দিন লাইফ সার্পোটে থাকার পর কুমিল্লার দেবিদ্বারের মাহতাব রহমানের মৃত্যুতে শোকেস্তব্ধ পরিবারসহ গ্রামবাসী৷ এলাকাবাসীর দাবি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যে আর না ঘটে।
শুক্রবার বিকেলে মাহাতাব রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাহাতাবের মৃত্যুে বাকরুদ্ধ তার মা। মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা পরেও থেমে থেমে কান্না করছেন তিনি।
মাহতাবের বাবা মিনহাজুর রহমান ভুইয়া বলেন, ছেলেটা অনেক মেধাবী ছিল। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ফাস্ট হয়ে ৭ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল। অনেক স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলেটাকে নিয়ে। আইসিইউতে মাহতাব আমার হাত ধরে বলেছিল- বাবা আমি মরবো না। কিন্তু আমার মাহতাবকে আল্লাহ নিয়ে গেলেন।
মাহাতাব রহমান ভুইয়া(১৪) বৃহস্পতিবার (২৪জুলাই) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়। মাহতাব মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। পরিবারের সাথে থাকত উত্তরার একটি ভাড়া বাসায়।
মাহাতাবের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের চুলাশ গ্রামে বৃহস্পতিবার (২৪জুলাই) রাত ১০টার পর চুলাশ ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় তার।
মিনহাজুর রহমান ভুইয়া আরো বলেন, বিমান বিধ্বস্তের খবর পেয়ে অফিস থেকে স্ত্রী ও আত্মীয়দের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্ত কোথাও মাহতাবকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে একজন চিকিৎসক আমার মোবাইলে কল করে বার্ন ইউনিটের ৬ তলা যেতে বলে। গিয়ে দেখি আমার ছেলের তখনও জ্ঞান আছে। সে চিকিৎসককে আমার মোবাইল নম্বর দিয়েছিল।
কান্না বিজড়িত কন্ঠে মাহাতাবের বড় বোন নাবিলা বলেন, আমার ভাইটা খুব ভালো ছাত্র ছিল। চুপচাপ থাকত। মাকে কখনো কষ্ট দিত না। আজ আমার ভাই কোনো শব্দ করবে না।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন বলেন, আমি মাহাতাবের জানাজাতে অংশগ্রহণ করেছি। এবং তার পরিবারের সাথেও কথা বলেছি৷ দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসন সবসময় এই শোকাহত পরিবারের পাশে থাকবে।
কুমিল্লা গেজেট