কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য: দালালের মাধ্যমে চলছে লেনদেন

  • প্রকাশের তারিখ : 24-জুলাই-2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোঃ ইব্রাহিম, মুরাদনগর ।।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে চলছে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য। দালালের মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন হচ্ছে নিয়মিত। সরকার নির্ধারিত ১,১৭০ টাকা ফি’র জায়গায় প্রতি নামজারি ও খারিজের জন্য দিতে হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন ভূমি তহসিলদারকে একটি সাধারণ নামজারির জন্য দিতে হয় ন্যূনতম ১,৫০০ টাকা। টাকা না দিলে “সার্ভার অচল” নামক অজুহাত দেখিয়ে সেবা আটকে রাখা হয়। ভুক্তভোগীরা বলছেন, কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা
২২ নম্বর টনকী ইউনিয়নের বাইড়া গ্রামের বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান অভিযোগ করেন, রাসেল মুন্সি নামে এক দালালকে ১৪ হাজার টাকা দিয়েও খারিজ করাতে পারেননি। পরে নিজে গিয়ে আবেদন করলে, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রস্তাবনা পাঠাতে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন। অনেক অনুরোধের পর ১,৭০০ টাকায় কাজ করান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম ‘খরচ হয়েছে’ বলে স্বীকার করেন, তবে সরকারি ফি ছাড়াও কেন টাকা রাখা হলো—সে প্রশ্নের সঠিক জবাব দেননি। তিনি পরে টাকাটা ফেরত দেবেন বলেও জানান।

বিভিন্ন ইউনিয়নে একই চিত্র
মুরাদনগরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। আকবপুর, আন্দিকুট, নবীপুর পশ্চিম, পূর্বধৈইর পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসব অফিসের কর্মীরা দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেন এবং নিজেরা সরাসরি অর্থ লেনদেনে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকেন।

সাধারণ মানুষ সরকারি নির্ধারিত ফি এবং সিটিজেন চার্টারের বিষয়ে না জানায়, সহজেই দালালদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছেন।

মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খাঁন বলেন, “নামজারি বা খারিজ প্রস্তাবনায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ফি ছাড়া আমাদের অফিসে কোনো টাকা লাগে না।”

তিনি আরও জানান, অনিয়ম রোধে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ