কুমিল্লা-বুড়িচং-বাগড়া সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষায় এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ফলে যাত্রী, চালকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরাবুন্নেছা বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে ডাক্তার দেখাতে কুমিল্লা শহরে যেতে ভয় লাগে। এই সড়ক দিয়ে গেলে শরীরের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার বেশি ঘুরে অন্য সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে সময়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়।
শুধু যাত্রী নয়, সড়কের বেহাল দশার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরাও। তাদের অভিযোগ, খানাখন্দে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মেরামতের খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে শারীরিকভাবেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়কের খারাপ অবস্থার প্রভাব পড়েছে যাত্রীভাড়াতেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমিল্লা শহর থেকে গাজীপুর বাজার পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশার নির্ধারিত ভাড়া ৫০ টাকা হলেও সড়কের বেহাল অবস্থার কথা বলে অনেক সময় ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বাগড়া এলাকার সিএনজি অটোরিকশাচালক মো. সেলিম মিয়া বলেন, সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে একদিন বের হলে পরের দুই দিন শরীরের ব্যথার কারণে ঘরে থাকতে হয়। সড়কের এমন অবস্থায় গাড়ি চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে বাধ্য হয়ে ভাড়া কিছুটা বেশি নিতে হয়। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকেই সড়কটির বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গর্ত ও ভাঙন আরও বেড়েছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বৃষ্টির পানি জমে অনেক গর্ত চোখে দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ কুমিল্লা শহরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জানিয়েছে, সড়কটির সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বর্তমানে বৃষ্টি ও বর্ষার মৌসুম চলায় সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বর্ষা শেষ হলেই কাজ শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে সড়কটির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংস্কারকাজ শুরু হবে।
দুই বছর আগে বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি এখন স্থানীয় মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস ও সংস্কারের অপেক্ষায় দিন কাটছে কয়েক লাখ মানুষের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুত প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু হলে কুমিল্লা-বুড়িচং-বাগড়া সড়কটি আবারও নিরাপদ ও স্বাভাবিক যোগাযোগপথে ফিরে আসবে।
মোঃ মাসুদ রানা