কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
একটি ফেসবুক পোস্ট, তারপর মানবিকতার গল্প, লুতুর পাশে দাঁড়ালেন প্রবাসী সাব্বির
একটি ফেসবুক পোস্ট, তারপর মানবিকতার গল্প, লুতুর পাশে দাঁড়ালেন...
0:00
0:00

একটি ফেসবুক পোস্ট, তারপর মানবিকতার গল্প, লুতুর পাশে দাঁড়ালেন প্রবাসী সাব্বির

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুর-২ গ্রামের প্রতিবন্ধী দোকানদার মো. লুৎফর রহমান (লুতু) মিয়ার দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ও ঘারমোরা এ কে এম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ অভি, হোমনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ২ জন ব্যক্তি।

হোমনা উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ অভি গত ২৬ জুলাই রাতে তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শরীফ সরকারের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে লুতু মিয়ার দোকানে চুরির ঘটনা জানতে পারেন। প্রতিবন্ধী একজন মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন দোকানে চুরির সংবাদ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।

ঘটনা জানার পরপরই তিনি তারই শিক্ষক শরীফ সরকারকে ফোন করে জানান, লুতু মিয়ার দোকান থেকে দ্বিতীয়বার  চুরি হওয়া পুরো ১৩ হাজার টাকার দায়িত্ব তিনি নিজেই নেবেন। তিনি আরও বলেন, মাসের শুরুতে বেতন পেলেই অর্থ পাঠিয়ে দেবেন। নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ আগস্টের মধ্যেই তিনি শরীফ সরকারের বিকাশ অ্যাকাউন্টে চুরি হওয়া ১৩ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন, যাতে লুতু মিয়া আবার নতুন করে তার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

এ বিষয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী সাব্বির আহমেদ অভি বলেন, “প্রতিবন্ধী লুতু ভাইয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা সত্যিই খুব কষ্টের। অনেকেই অসহায় হয়ে অন্যের কাছে সাহায্য চান, কিন্তু লুতু ভাই নিজের পরিশ্রমে একটি ছোট মুদির দোকান করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেই দোকানেই চুরি হওয়ার খবর দেখে আমি খুবই মর্মাহত হই। তাই আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীরা যদি এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।”

চুরি হওয়া ১৩ হাজার টাকা একসঙ্গে হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রতিবন্ধী লুতু মিয়া। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী সাব্বির আহমেদ অভির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি কেউ এভাবে আমার পাশে দাঁড়াবে। আল্লাহ যেন অভি ভাইকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন এবং তার রিজিকে আরও বরকত দান করেন।”

লুতু মিয়ার বড় বোনও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ। বিশেষ করে সাব্বির আহমেদ অভি ভাইয়ের প্রতি আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। তিনি যেভাবে আমার ভাইয়ের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে  দিয়েছেন, তা কোনোদিন ভোলার নয়।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়ে এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই বিরল। প্রবাসী সাব্বির আহমেদ অভির এই সহায়তা শুধু একজন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারের আর্থিক ক্ষতিই পূরণ করেনি, বরং সমাজে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। তার এই উদ্যোগে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন প্রতিবন্ধী লুতু মিয়া এবং অনুপ্রাণিত হয়েছেন এলাকার অনেক মানুষ।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ