কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
দেবিদ্বারে প্রেমে রা‌জি না হওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে গ'ণ'ধ'র্ষণ
দেবিদ্বারে প্রেমে রা‌জি না হওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে ...
0:00
0:00

দেবিদ্বারে প্রেমে রা‌জি না হওয়ায় মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণ করে গ'ণ'ধ'র্ষণ

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৪) অপহরণের পর আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রী নিজেই বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

​মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, দে‌বিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামের মো. রমিজ মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া ও তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

​পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে সবুজ মিয়া তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। ওই ছাত্রী প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সবুজ তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত ১০-১২ দিন আগে সবুজ ভুক্তভোগী ছাত্রীকে নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ফোন করতে বলে, অন্যথায় বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেয়। পরে ওই ছাত্রী বাধ্য হয়ে সবুজকে ফোন করলে সে তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়, যা ছাত্রীটি প্রত্যাখ্যান করে।

​সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে সবুজ মিয়া ফোন করে ওই ছাত্রীকে শনিবার সকালে দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় দেখা করতে বলে। দেখা না করলে আবারও ক্ষতির ভয় দেখানো হয়। পরদিন শনিবার সকালে ছাত্রীটি বাধ্য হয়ে নিউমার্কেট এলাকায় গেলে সবুজ তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে বারেরা গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে সবুজ প্রথমে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এর কিছুক্ষণ পর তার মামাতো ভাই ইসমাইল হোসেনও ওই কক্ষে ঢুকে তাকে পুনরায় ধর্ষণ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীকে রাস্তায় রেখে পালিয়ে যায়।

​ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা জানান, সবুজ দীর্ঘ দিন ধরে তার মেয়েকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। অপহরণ ও ধর্ষণের পর আসামিরা মেয়েটিকে হুমকি দেওয়ায় ভয়ে সে প্রথমে পরিবারকে কিছু জানায়নি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের কাছে সে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।

​এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান আজ বুধবার বিকেলে জানান, অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি কয়েক দিন আগের হওয়ায় আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ