কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপন

  • প্রকাশের তারিখ : 18-মে-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস (International Day of Plant Health-IDPH) ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (SAU) এক হাইব্রিড বৈজ্ঞানিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। “খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির জন্য উদ্ভিদ জৈবনিরাপত্তা: বাংলাদেশের প্রেক্ষিত” শীর্ষক এ আয়োজনে বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা অংশ নেন। তারা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে উদ্ভিদ জৈবনিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ ফাইটোপ্যাথলজিক্যাল সোসাইটি (BPS), ক্যাবি বাংলাদেশ (CABI Bangladesh) এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনলাইনেও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। এতে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদ, কোয়ারেন্টাইন কর্মকর্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বাংলাদেশ ফাইটোপ্যাথলজিক্যাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এম. সালাহউদ্দিন এম. চৌধুরী সীমান্ত অতিক্রমকারী পোকামাকড় ও উদ্ভিদ রোগের বাড়তে থাকা ঝুঁকি, কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কৃষি সুরক্ষায় কৌশলগত ও কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

ক্যাবি সাউথ এশিয়ার ক্রপ হেলথ অ্যাডভাইজর ড. মঞ্জু ঠাকুর আঞ্চলিক পেস্ট ঝুঁকি, আগ্রাসী প্রজাতির হুমকি এবং জাতীয় পেস্ট ডাটাবেজ, নজরদারি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জৈবনিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. এম. আমিন উদ্দিন মৃধা, ড. মো. আব্দুল লতিফ, অধ্যাপক ড. তফাজ্জল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. মো. রাজ্জাব আলী। তারা জলবায়ু-সহনশীল রোগ ব্যবস্থাপনা, বায়োফার্টিলাইজার, বায়োফর্টিফিকেশন এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োগযোগ্য রোগ ব্যবস্থাপনা সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. রবি ক্ষেতরপাল (APAARI, থাইল্যান্ড), ওয়েন ডানকান ক্যালভার্ট (CIMMYT Bangladesh) এবং ড. মো. সালেহ আহমেদ (CABI Bangladesh)। তারা উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, আইনগত সংস্কার, এসপিএস তথ্যব্যবস্থা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন উদ্ভিদ স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা, গবেষণা এবং নীতিনির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সকল অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহমেদ। কারিগরি সেশন সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামান এবং সমাপনী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

আলোচনা থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর মধ্যে ছিল বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে আধুনিক উদ্ভিদ কোয়ারেন্টাইন সুবিধা ও পরীক্ষাগার স্থাপন, যাতে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও পোকামাকড় শনাক্ত করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক ফাইটোস্যানিটারি মান অনুসরণে সহায়ক জাতীয় পেস্ট ডাটাবেজ ও নিয়ন্ত্রিত পেস্ট তালিকা তৈরির আহ্বান জানান।

এছাড়া উদ্ভিদ, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যের আন্তঃসম্পর্ক বিবেচনায় জাতীয় “ওয়ান হেলথ” এজেন্ডার সঙ্গে উদ্ভিদ স্বাস্থ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। টেকসই পোকা ও রোগ ব্যবস্থাপনা চর্চা জোরদার করা এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার ধীরে ধীরে বন্ধ করার সুপারিশও করা হয়।

আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্ভিদ জৈবনিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপনের মাধ্যমে পুনরায় তুলে ধরা হয় যে, উদ্ভিদ স্বাস্থ্য খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, পরিবেশগত স্থায়িত্ব এবং গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। আয়োজকরা উল্লেখ করেন, উদ্ভিদ জৈবনিরাপত্তা কেবল একটি কারিগরি বিষয় নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অগ্রাধিকার, যার জন্য সমন্বিত গবেষণা, নীতি সহায়তা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ