আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশা নিয়ে বিগত ০৮ আগষ্ট ২০২৪ইং তারিখে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। বিশ কোটি মানুষের রক্তক্ষরণ, আবেগ, প্রত্যাশা ও ভালোবাসা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ বেয়ে চলেছেন স্বপ্নতরী। বাংলাদেশের আমজনগণ অধীর আগ্রহে তীরে এসে তরী ভেড়াতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
এদিকে শুরু হয়ে গিয়েছে বিগত চুয়ান্ন বছরের ব্যর্থ রাজনীতির কূটকৌশলী ব্ল্যাক ম্যাজিক। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে আরো দুর্বল করে রাখার যতসব প্রচেষ্টা। তাদের ঘাড়ে পাড়া দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করতে হবে, রাষ্ট্রের নির্বাহী ও বিচার বিভাগ দখলে নিতে হবে, স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় পদগুলো দখল করতে হবে, উনি আমাদের লোক উনাকে বদলি করা যাবে না, কোনো সংস্কার করা যাবে না বা সংস্কার কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়ন করা যাবে না, সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা বা অকার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয়ে কোনো কাজ করা যাবে না, ছাত্র জনতার আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ রচিত জুলাই সনদ অপ্রয়োজনীয়, তা বাস্তবায়ন করা যাবে না ইত্যাদি নানাবিধ আপত্তিতে অন্তবর্তীকালীন সরকার রুটিন ওয়ার্কের বাইরে শুধু তাড়াতাড়ি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতার সুযোগে রাজনীতির ছত্রছায়ায় বাস স্ট্যান্ড, বেবি স্ট্যান্ড, হাট-বাজার, মাঠ-ঘাট, দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটিয়ে সারা বাংলার আমজনগণকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছেন। এসকল ঘটনাই ০৫ আগষ্টের আগে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের ছত্রছায়ায় হতো আর এখন রাজনীতির ছত্রছায়ায় হচ্ছে—শুধু কুশীলব পরিবর্তন হয়েছে, অর্থাৎ হাত বদল হয়েছে মাত্র। স্বপ্নতরীর প্রত্যাশিত নোঙর যেনো মরিচিকায় পরিণত হলো। দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন রাষ্ট্র বা সমাজের কোনো স্তরেই প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে আর প্রত্যাশা না করাই ভালো। তারা সাধ্যমত চেষ্টা করছে। আসলে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় পলিসি মেকারদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এখন ৮ আগষ্ট ২০২৪-এ ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়, আর বিপ্লবী সরকার গঠন করে পূর্বের ভুল সংশোধন করাও সম্ভব নয়। ফলে সাংবিধানিক শপথের মাধ্যমে গঠিত সরকারকে এই সংবিধান মেনেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে। যেখানে প্রত্যাশিত সংস্কার বা সংবিধান পরিবর্তনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রায় অপ্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের শনিরদশা শেষ হয়নি। তাই আপাতত ধৈর্যের সাথে আবারো অপেক্ষা করতে হবে। শাসন, শোষণ ও আন্দোলন—এই ত্রিচক্রকাল পরিভ্রমণে আরো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। সঠিকভাবে কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। চুয়ান্ন বছরের ব্যর্থ রাজনীতির ব্ল্যাক ম্যাজিকার নয়, ন্যায়-নৈতিকতা সম্পন্ন মানবিক সরকারের হাতে দেশের দায়িত্ব অর্পণ করতে হবে, তবেই এ জাতির মুক্তি সম্ভব।
লেখক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম
আহবায়ক, কুমিল্লা জেলা
সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম