নেকবর হোসেন।।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের সুবর্ণপুর এলাকা। গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সড়ক ধরে সুবর্ণপুরে ঢুকতেই চোখে পড়ে নদীর বিস্তীর্ণ চরে সবুজের সমারোহ। যত দূর চোখ যায় সারি সারি ফুলকপির গাছ। চরের উর্বর মাটিতে দ্রুত বেড়ে উঠছে শীতের আগাম সবজি—ফুলকপি। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সার ছিটাচ্ছেন, আবার কেউ গাছের গোড়ায় পানি দিচ্ছেন।
সুবর্ণপুর এলাকার কৃষকেরা জানান, প্রায় এক মাস আগে তাঁরা ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। এখন কলি বের হতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই বাজারে তুলতে পারবেন। আগাম মৌসুমে বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন তাঁরা।
চরের প্রবীণ কৃষক আবদুস সাত্তার জানান, তিনি ২৪ শতাংশ জমিতে ৩ হাজার ফুলকপির চারা রোপণ করেছেন। প্রতি হাজার চারা কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, “১৫ দিন পর থেকেই কপি বিক্রি শুরু হবে আশা করছি। বাজারে এখন সবজির দাম ভালো, আল্লাহ চাইলে লাভবান হব।”
সরেজমিন দেখা যায়, চরের মাটিতে সবুজ পাতার ফাঁক গলে উঁকি দিচ্ছে সাদা ফুলকপি—এক অপূর্ব দৃশ্য। শুধু সুবর্ণপুর নয়, আশপাশের অরণ্যপুর, জালুয়াপাড়া, সামারচর, ছাওয়ারপুর ও গাজীপুর চরেও ফুলকপির চাষ হয়েছে। সর্বত্রই কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসলের যত্নে।
কৃষক আবু সাঈদ জানান, তিনি ১৬ শতাংশ জমিতে ২ হাজার ফুলকপির চারা লাগিয়েছেন। এখন ফুল দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “বাজারে আগাম কপি তুলতে পারলে দাম ভালো পাইবো। ফলন ভালোই দেখতাছি, আল্লাহ ভরসা।”
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “গোমতী নদীর চরাঞ্চলের মাটি উর্বর ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো। তাই প্রতিবছরই কৃষকেরা এখানে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চাষ করেন। এ বছর আগাম ফুলকপির চাষ বেড়েছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকেরা ভালো দাম পেয়ে লাভবান হবেন।”
কুমিল্লা গেজেট. কম