কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৯ বছর বয়সী এতিম শিশু রিয়ার ডান হাত রক্ষা করেছেন চিকিৎসকরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে কাটা রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি জোড়া দিয়ে শিশুটির ডান হাতের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।
গত ১২ আগস্ট ২০২৬ বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে এ জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।
প্লাস্টিক সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা মির্জ্জা মু তাইয়েবুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় শিশুটির ডানহাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও মারাত্মকভাবে কেটে যায়। এতে ডানহাতের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অধ্যাপক ডা মির্জ্জা মু তাইয়েবুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচারে হাতের Revascularization বা সম্পুর্ন কেটে যাওয়া রক্তনালী পুনরায় জোড়া দেওয়া অপারেশন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান দুইটা রক্তনালী এবং প্রধান ৩টা নার্ভ বা স্নায়ু জোড়া দেওয়া হয়। radial artery end to end anastomosis এবং ulnar artery repair by interposition saphenous vein graft ব্যবহার করে রক্তনালীর সংযোগ স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে radial, median ও ulnar nerve এবং ডানহাতের বিভিন্ন flexor muscle repair করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই জটিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির হাতটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তবে হাতের কার্যক্ষমতা কতটা ফিরে আসবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী চিকিৎসা, পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর।
অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. মাহবুব ইবনে মোমেন খান জনি, ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সাল, ডা. আবু নাহিয়ান, ডা. রনি রায় ও ডা. ফাহিমা ফারজানা সিমু।
অ্যানেস্থেসিয়া টিমে ছিলেন আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার। এছাড়া টিমে ছিলেন ডা. সুস্মিতা সেন গুপ্ত, ডা. খাতুনে জান্নাত, ডা. শাফি, ডা. লিমা, ডা. নাইম ও ডা. আহসান হাবীব।
চিকিৎসকদের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করা নার্সিং কর্মকর্তা ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট স্টাফদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এধরণের অপারেশনের জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।অন্যথায় সম্পুর্ন হাত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এটি সর্বপ্রথম সফল অপারেশন।
এদিকে, এতিম শিশু রিয়ার দ্রুত সুস্থতা এবং তার হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক