কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
শুভ্রের মা'ম'লার আসামিদের বি'রু'দ্ধে গ্রে'প্তা'রি পরোয়ানা, তবু থামেনি অ'প'রাধ
শুভ্রের মা'ম'লার আসামিদের বি'রু'দ্ধে গ্রে'প্তা'রি পরোয়ানা, ত...
0:00
0:00

শুভ্রের মা'ম'লার আসামিদের বি'রু'দ্ধে গ্রে'প্তা'রি পরোয়ানা, তবু থামেনি অ'প'রাধ

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লায় পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের দায়ের করা একাধিক মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তারা এখনো পলাতক রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব আসামি ও তাদের সহযোগী চক্র আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধারাবাহিকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাদী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, তাঁর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪)–এ নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না করা এবং সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেন কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে আসামিরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নানা উপায়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। মামলার সাক্ষীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, অপহরণের চেষ্টা, চাঁদা দাবি, ফেসবুকে অপপ্রচার, সম্মানহানি, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

বাদীর ভাষ্য, আসামিদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে, যারা প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ প্রচেষ্টা, অস্ত্র নিয়ে হামলা, বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে হুমকি, গোপন ক্যামেরা স্থাপনের চেষ্টা এবং মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করে নজরদারির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, “জি আর মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বিভিন্নভাবে আমাকে পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এ ছাড়া দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)–তেও আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং এখনো কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। দুটি মামলাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হওয়ায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, সাম্প্রতিক আরেকটি সি আর মামলা (নং-৬১৫/২৬, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬) কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-১-এ রেকর্ড হয়েছে। দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৬৫/৪২০/৫১১/৫০০/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র আরও জানান, বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারেও তিনি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আইজিপির অভিযোগ সেল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ সুপার কুমিল্লা ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে নির্দেশনা গ্রহণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কোতোয়ালি থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আনোয়ার বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে আমরা বাদীর বাসায় গিয়েছি এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই মামলার পাশাপাশি উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

বাদীর দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসামিরা আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ পুরো অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ