কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
রিকশা চালকের মেয়েকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি অধ্যক্ষ
রিকশা চালকের মেয়েকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি অধ্যক্ষ
0:00
0:00

রিকশা চালকের মেয়েকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি অধ্যক্ষ

ছবির ক্যাপশন:

কলেজের বেতন পরিশোধ করতে না পারায় রিকশা চালকের মেয়েকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফরম পূরণ করতে দেওয়া হয়নি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার। ফি কমানোর আবেদন করলে অভিভাবককে আপমান করে বের করে দেওয়া হয় প্রতিষ্ঠান থেকে।  

সূত্রমতে, গত ৩০ মার্চ শেষ হয় উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ। জান্নাতুল ফেরদৌস চলতি বছর দাউদকান্দি উপজেলার বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। কলেজে তার ১১হাজার টাকার মতো বেতন বকেয়া আছে। 

অধ্যক্ষের সাথে অভিভাবকের  কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডে শোনা যায় ওই ছাত্রীর বোন বলেন, টাকা শোধ করার জন্য তো আমাদের সময় দেননি। টেস্ট পরীক্ষা দিতেও দেননি। তখন অধ্যক্ষ বলেন, টাকা ছাড়া কী তোমার বোনকে মাগনা (বিনামূল্যে) পড়াব?  তোমার বোনকে ফ্রি পড়াতে ঠেকছে কেউ? যার আমলে তোমরা ফ্রি পড়ছ, তাকে লইয়াও গিয়া..

জান্নাতুল ফেরদৌসের বড় বোন মোসা. সীমা আক্তার বলেন, আমরা পাঁচ বোন। বাবা পূর্বে রিকশাচালক ছিলেন। বয়সের কারণে এখন পারেন না। আমরা অধ্যক্ষ স্যারের কাছে বেতন মওকুফ করার জন্য গিয়েছি। স্যার আমাদের অপমান করে বের করে দিয়েছেন। হুমকি দিয়েছেন, কীভাবে সে পরীক্ষা দিবে!  আমি বলেছি, স্যার আপনি তো আমাদের পরিবারের অবস্থা জানেন। স্যার বলেন, টাকা ছাড়া কী মাগনা পড়ব?  নির্বাচনী পরীক্ষা এক বিষয় দেওয়ার পর আর পরীক্ষা দিতে দেয়নি। আমরা বারবার অনুরোধ করে বলেছি,  টাকা যা আসে আমরা সংগ্রহ করে দিয়ে দিব। পরীক্ষায় সুযোগটা দেন। তখন স্যার পরীক্ষার সুযোগ দেননি। জান্নাতকে বারবার অপমান করার কারণে সে মানসিকভাবে ভালো নেই। তার এসএসসির রেজাল্ট ভালো। কলেজের প্রথমবর্ষের রেজাল্টও ভালো, কিন্তু তাকে নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে দেয়নি। 

বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহফুজ ভূঁইয়া জানান, সে গত দুবছর প্রতিষ্ঠানকে এক টাকাও দেয়নি।  এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এখন দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। আমরা তো সভাপতির কথার বাইরে কিছু করতে পারি না।  ইউএনওর কাছে গেছে, থানায় গেছে। আমি নাকি দুর্ব্যবহার করছি। ইউএনও তাকে ধমকাইয়া বের করে দিছে। 

দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বরকোটা স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি নাছরিন আক্তার জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আর জান্নাতুল ফেরদৌস বা তার পরিবারের কোনো সদস্য আমার কার্যালয়ে আসেনি। 

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যামিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন বলেন, বিষয়টি  দুঃখজনক। অনলাইনে ফরম পূরণের সময় শেষ। প্রতিষ্ঠান প্রধান আন্তরিক হলে ম্যানুয়ালি আবেদন করতে পারবে। এবছর পরীক্ষা দিতে পারবে, তার শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হবে না।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ