নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি ও কর্মবিরতি পালন করছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১০টায় একটি বিক্ষোভ র্যালি বের করে তারা। র্যালিটি প্রশাসনিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দিয়ে গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
অবস্থান কর্মসূচি শেষে কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, 'বর্তমানে কর্মচারীরা যে বেতন পাচ্ছেন, তা দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ বেতনে বর্তমান বাজারদরে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব। তারা বেতন কাঠামোয় চরম বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বলেন, যেখানে প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারিত, সেখানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেতন মাত্র ২০ হাজার টাকা।'
তারা আরও বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের আশায় অপেক্ষা করছেন। এই পে স্কেল কার্যকর হলে কর্মচারীরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারতেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নানা টালবাহানার মাধ্যমে এতদিন কর্মচারীদের আশ্বাস দিয়ে এলেও এখন পে স্কেল কার্যকরে অনীহা প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।'
এর প্রতিবাদে সারা দেশের কর্মচারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন বলেও জানান নেতৃবৃন্দ। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ৬ তারিখের মধ্যে নবম পে স্কেল সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা না হলে বাংলাদেশের সকল কর্মচারীদের সঙ্গে একযোগে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র উদ্দেশ্যে পদযাত্রা করা হবে।
কর্মচারী নেতারা দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
মো:বিল্লাল হোসেন,কুবি প্রতিনিধি