কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী লোকমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। মরদেহ থানায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। নিহত সুমাইয়া আক্তার (২৫)-এর পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করেছে।
জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের মধ্যম হাজিরা পাড়ার বাসিন্দা লোকমানের সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন সুমাইয়া আক্তার। স্বামী লোকমান, শ্বশুর মনু মিয়া, শাশুড়ি সালেহা বেগম ও ননদ মানসুরা আক্তার তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৩ আগস্ট সকালে মুঠোফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলার ঘন্টাখানেক পর সুমাইয়া কেঁদে জানায়, “আম্মু, আমারে মাইরা ফেলার চেষ্টা করছে, আমারে নিয়ে যান।” কিছুক্ষণ পর শ্বশুর ফোন দিয়ে জানায়, “আপনার মেয়ে মারা গেছে, চলে আসেন।” এরপর তারা মরদেহ সরাসরি থানায় নিয়ে গিয়ে আত্মহত্যা দাবি করে এবং পালিয়ে যায়।
নিহতের বাবা সেলিম মিয়া জানান, “আমার মেয়েকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে টালবাহানা করেছে।” নিহতের মা বিলকিস বেগম বলেন, “জামাই বিদেশ যাওয়ার টাকা আমরা দিয়েছি, তারপরও আমার মেয়েকে তারা মারলো।”
এলাকাবাসীর দাবি, সুমাইয়ার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হিলাল উদ্দিন জানান, “মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। পরিবার হত্যা মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের পরিবার দ্রুত বিচার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।
কুমিল্লা গেজেট