কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে চলমান লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী চক্র প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালালেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পুরো এলাকা এখন আতঙ্কে ভরপুর এবং প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি পরিবারের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।দুর্বৃত্তরা শুধু ঘরের মালামাল লুটেই ক্ষান্ত হয়নি—প্রায় ৩০টির অধিক বাড়ির গ্রিল, দরজা, জানালা ও গেট পর্যন্ত মেশিন দিয়ে কেটে নিয়ে গেছে। এমন সুপরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞে আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামুন, জিয়া, জীবন, ওবায়েদুল হক, কামাল, শেখ ফরিদ, সজিব, মুন্না, রিংকু, ইলিয়াস, ফখরুলসহ প্রায় ৭০-৮০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাদের দাবি, সালেহ আহমেদ গ্রুপের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
ভুক্তভোগী নাছিমা বেগম বলেন আমাকে আমার বাড়ীতে সালেহ আহমেদ লোকজন চুরি ধরে বাড়ী থেকে বের হওয়ার জন্য নির্দেশ দেন। পরবর্তী আমি এ ব্যাপারে প্রশাসন কে অবগত করলে তারা আমাদের কে নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেন এবং এলাকায় থেকে চলে যেত বলেন।
অপর ভুক্তভোগী হাছিনা বেগম বলেন আমার বাড়ীর আলমারি থেকে ১০ ভরি গয়না, দরজা,জালানা,গ্রিল,এবং বাথরুমের কমেট সহ সকল কিছুই নিয়ে যায়, এছাড়া প্রায় ২০০,টির অধিক পরিবারে ঘর ছাড়া সকল কিছু নিয়ে যায় সালেহ আহমেদ গ্রুপের লোকজন।
এছাড়া ভুক্তভোগী রাহেলা বেগম ও মিজানুর রহমান বলেন,আলিয়ারা গ্রাম জনমানব শূন্য প্রশাসনের ব্যর্থতার কারনে আজকে আলিয়ারা গ্রামের অবস্থা। গ্রামের ৩ টা খুন হয়েছে সালেহ আহমেদ গ্রুপের লোকজন মানুষের বাড়ীঘর লুটপাট করে সব কিছু নিয়ে গেছে। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয়দের ভাষ্যমতে, সন্ত্রাসীরা গ্রামের অসহায় ও নিরীহ মানুষদের জোরপূর্বক এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে। ফলে গ্রামটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং সর্বত্র বিরাজ করছে ভীতিকর নীরবতা। এর ফলে এই গ্রামের ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে পড়েছে।যা এ গ্রামের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন অন্ধকার নেমে আসবে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। চলমান লুটপাট তাণ্ডবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগীদের কোর্টে মামলা দায়ের করতে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি