কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ

  • প্রকাশের তারিখ : 14-ডিসেম্বর-2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘোষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর  লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, আবদুর রাজ্জাক ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে ভোট কারচুপিতে সহায়তা করেন। এরোই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি  সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
 গত সময়ে দলীয় এমপির প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী পন্থী  কিছু শিক্ষককে নিয়ে সিন্ডিকেট করেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘোষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন এ কর্মকর্তা।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, উপজেলার ২০৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ বরাদ্দ, ওয়াশ ব্লক, ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স ও জরুরি বরাদ্দের অর্থ থেকে ক্লাস্টার ভিত্তিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিয়মিত বিভিন্ন কাদায় ঘোষ আদায় করেন তিনি। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বদলি, পদায়ন ও তদন্তের নামে কায়দা করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূত বদলি বাণিজ্য, মৌখিক ডেপুটেশন, শূন্য পদ গোপন রেখে নিয়োগ ও পদায়নে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

এই অনিয়মে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে ঘৃণা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। 

 বড়ইয়াকড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মুরাদনগর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, একজন শিক্ষা কর্মকর্তার এমন অনিয়ম পুরো প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যেন নষ্ট হয়ে গেছে। তারা স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হতেই পারে,আপনার বিরুদ্ধে হতে পারে, প্রধানমন্ত্রী বিরুদ্ধে হতে পারে, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে  ও হতে পারে। আমি অপরাধ করে থাকলে আমার শাস্তি হবে। আর আমি কতটুকু অপরাধ করেছি তা তদন্তের মাধ্যমে সত্য- মিথ্যা বের হয়ে আসবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান বলেন, “অভিযোগ হয়ে থাকলে তদন্ত হবে। শিক্ষা খাতে অনিয়ম কোনো ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।”

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল জানান, “এ ধরনের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 


কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ